Blog
How to clean leather Goods
চামড়ার জিনিস পরিষ্কার করার উপায়: ব্যাগ, ওয়ালেট, জুতা ও সোফা ঘরেই যত্নে রাখুন
ভালো মানের চামড়ার ব্যাগ, ওয়ালেট বা জুতা আমরা কিনি যাতে অনেক দিন ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু কিছুদিন পরই রং ফিকে হয়ে যায়, ধুলা জমে বা আর্দ্রতায় সাদা দাগ পড়ে। অথচ ঠিকভাবে যত্ন নিলে এগুলো অনেক বছর নতুনের মতো রাখা সম্ভব।
তাহলে চামড়ার জিনিস কীভাবে পরিষ্কার করবেন? সহজ উপায় হলো: চামড়ার ধরন বুঝে নিন, নরম কাপড় ও হালকা ক্লিনার ব্যবহার করুন, কখনো কড়া রাসায়নিক বা সরাসরি রোদে রাখবেন না। পরিষ্কারের পর কন্ডিশনার লাগিয়ে ছায়ায় ও বাতাসে শুকান।
এই গাইডে দেখানো হবে কীভাবে ঘরে বসে ব্যাগ, ওয়ালেট, জুতা ও সোফা পরিষ্কার করবেন। দাগ বা ছত্রাক দূর করার উপায় এবং বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় চামড়ার জিনিস সংরক্ষণের কৌশল সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি ধাপে সহজ উদাহরণ থাকবে, যাতে আপনি নিজেই চেষ্টা করতে পারেন।
পরিষ্কারের আগে চামড়ার ধরন চিনুন
সব চামড়া একভাবে পরিষ্কার করা যায় না। ভুল পদ্ধতিতে পরিষ্কার করলে ভালো জিনিসও নষ্ট হতে পারে। তাই শুরুতেই দেখে নিন, আপনার জিনিসটি কোন ধরনের চামড়ার।
ফুল গ্রেইন ও টপ গ্রেইন লেদার (পশুর চামড়া): এগুলোই সবচেয়ে টেকসই। ওয়ালেট, বেল্ট ও ভালো মানের ব্যাগে সাধারণত এই চামড়া থাকে। এগুলো হালকা ভেজা কাপড় ও মৃদু সাবানে পরিষ্কার করা যায়।
সুয়েড ও নুবাক: এই চামড়ার উপরিভাগ মখমলের মতো নরম। পানি বা সাবান লাগালে স্থায়ী দাগ পড়ে। এগুলো শুধু শুকনো সুয়েড ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়।
কৃত্রিম চামড়া (PU বা ফক্স লেদার): দেখতে চামড়ার মতো হলেও এটি প্লাস্টিকজাতীয় উপাদান। হালকা ভেজা কাপড়ে মুছলেই কাজ হয়, তবে কন্ডিশনার লাগানোর দরকার নেই।
ধরুন আপনার একটি বাদামি রঙের ফুল গ্রেইন লেদার ওয়ালেট আছে। ভেতরের লেবেল বা কেনার সময়ের বর্ণনা দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন এটি আসল চামড়া। এরপর ওয়ালেটের নিচের দিকের একটি অদৃশ্য কোণে সামান্য ভেজা কাপড় ছুঁইয়ে দেখুন রং উঠছে কি না। একে বলে প্যাচ টেস্ট। এটি যেকোনো জিনিসে নতুন ক্লিনার ব্যবহারের আগে করা উচিত। পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে রং বা গঠনে পরিবর্তন না দেখলে নিশ্চিন্তে পরিষ্কার শুরু করতে পারেন।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
চামড়ার জিনিস পরিষ্কারের জন্য দামি কিছু লাগে না। ঘরে থাকা সাধারণ জিনিস দিয়েই কাজ হয়ে যায়।
- দুই-তিনটি নরম মাইক্রোফাইবার কাপড়: একটি ভেজানোর জন্য, একটি শুকানোর জন্য, একটি পালিশের জন্য। খসখসে তোয়ালে ব্যবহার করবেন না।
- মৃদু সাবান: শিশুদের সাবান বা সামান্য ডিশওয়াশ। তীব্র ডিটারজেন্ট বা ব্লিচ কখনোই নয়।
- নরম ব্রাশ: পুরোনো পরিষ্কার টুথব্রাশ বা ঘোড়ার লোমের ব্রাশ সেলাইয়ের ফাঁকের ধুলা তুলতে কাজে লাগে।
- লেদার কন্ডিশনার: পরিষ্কারের পর চামড়ার তেল ফিরিয়ে দেয়। বাজারে লেদার ক্রিম বা বিশেষ কন্ডিশনার পাওয়া যায়।
- সুয়েড ব্রাশ ও ইরেজার: শুধু সুয়েড বা নুবাকের জন্য।
- কাগজ বা পুরোনো কাপড়: ব্যাগ বা জুতার ভেতরে ভরে আকার ঠিক রাখতে।
মনে রাখবেন, চামড়ার জিনিস পরিষ্কারে অ্যালকোহল বা স্পিরিট জাতীয় জিনিস এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শিক্ষক বাতায়নের চামড়ার জিনিস পরিষ্কারের ঘরোয়া নিয়ম শীর্ষক লেখাতেও এই সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
ধাপে ধাপে সাধারণ পরিষ্কারের পদ্ধতি
ব্যাগ, ওয়ালেট, বেল্ট বা সোফা, প্রায় সব ফিনিশড লেদারের জন্য নিচের পদ্ধতি কাজ করে।
- ধাপ ১: শুকনো ধুলা সরান। প্রথমে শুকনো নরম কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে ধুলা ঝেড়ে ফেলুন। সেলাই, ভাঁজ ও কোণার দিকে বিশেষ নজর দিন। ধুলা না সরিয়ে ভেজা কাপড় ঘষলে ধুলা ঘষা খেয়ে চামড়ায় আঁচড় কাটতে পারে।
- ধাপ ২: সাবানের মিশ্রণ বানান। এক কাপ কুসুম গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা মৃদু সাবান মিশিয়ে নিন। ফেনা বেশি হলে তা আলাদা করে ফেলুন, কারণ পানি ও ফেনা বেশি লাগলে চামড়া শক্ত হয়ে যায়।
- ধাপ ৩: কাপড় ভিজিয়ে ভালো করে চিপে নিন। কাপড় যেন শুধু ভেজা থাকে, ভিজে চুপচুপে নয়। চামড়ায় সরাসরি পানি ঢালা বা স্প্রে করা ঠিক নয়।
- ধাপ ৪: হালকা হাতে মুছুন। গোল গোল করে আলতো হাতে মুছুন। জোরে ঘষবেন না। ময়লা তুলতে একই জায়গায় বারবার না ঘষে কাপড়ের পরিষ্কার অংশ ব্যবহার করুন।
- ধাপ ৫: সাবান তুলে ফেলুন। আরেকটি পরিষ্কার ও সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে সাবানের চিহ্ন তুলে ফেলুন। শিক্ষক বাতায়নের পরামর্শ অনুযায়ীও পরিষ্কারের পর হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হয়, যেন গায়ে সাবান লেগে না থাকে।
- ধাপ ৬: ছায়ায় শুকাতে দিন। শুকনো কাপড়ে মুছে ঘরের ছায়াযুক্ত ও বাতাস চলাচলের জায়গায় রাখুন। হেয়ার ড্রায়ার, হিটার বা সরাসরি রোদে শুকাবেন না। এতে চামড়া ফেটে যেতে পারে।
মনে করেন, আপনার ব্যাগের হ্যান্ডেলে হাতের তেল ও ঘামে কালচে ভাব জমেছে। ধাপ ১ থেকে ৬ মেনে শুধু হ্যান্ডেল অংশ পরিষ্কার করুন। কালচে ভাব না গেলে একদিন অপেক্ষা করে দ্বিতীয়বার হালকা করে মুছুন। একবারে জোর করে তুলতে গেলে রং উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
লেদার ওয়ালেট কীভাবে পরিষ্কার করবেন
ওয়ালেট আমরা সবচেয়ে বেশি হাতে ধরি এবং পকেটে রাখি। ফলে এতে ঘাম, তেল ও ধুলা সবচেয়ে বেশি জমে। তাই ওয়ালেটের যত্ন আলাদা করে নেওয়া দরকার।
- প্রথমে খালি করুন। কার্ড, নোট, কয়েন ও কাগজ সব বের করে ফেলুন। ভেতরের ভাঁজে জমে থাকা কাগজের টুকরো ও ধুলা ঝেড়ে ফেলুন।
- ভেতর ও বাইরে আলাদাভাবে মুছুন। বাইরের অংশ উপরের সাধারণ পদ্ধতিতে পরিষ্কার করুন। কার্ড স্লট ও ভেতরের অংশে পানি কম ব্যবহার করুন, শুধু শুকনো বা প্রায় শুকনো কাপড় দিয়ে মুছুন। ভেতরে বেশি পানি ঢুকলে সেলাইয়ের ফাঁকে আর্দ্রতা আটকে ছত্রাকের ঝুঁকি বাড়ে।
সেলাইয়ের ফাঁকে ব্রাশ চালান। নরম টুথব্রাশ দিয়ে আলতো করে সেলাইয়ের ধুলা তুলুন। - কন্ডিশনার দিন। পুরো শুকিয়ে গেলে সামান্য কন্ডিশনার কাপড়ে নিয়ে পাতলা করে লাগান। বেশি লাগালে ওয়ালেট আঠালো হয়ে যায় এবং প্যান্টের পকেটে দাগ ফেলতে পারে।
মনে করুন, আপনার কাছে একটি বাইফোল্ড ওয়ালেট আছে, যা দুই বছর ধরে প্রতিদিন পকেটে থাকছে। ভাঁজের জায়গাটি সবচেয়ে বেশি চাপ খায়, তাই সেখানে চামড়া শুকিয়ে সূক্ষ্ম ফাটল ধরতে পারে। প্রতি তিন মাসে একবার ভাঁজের অংশে একটু কন্ডিশনার লাগালে এই সমস্যা অনেক কমে। আপনি যদি নতুন একটি ওয়ালেট খুঁজছেন, তাহলে স্টাইল ভেলির বাইফোল্ড ওয়ালেট কালেকশন দেখতে পারেন। আসল চামড়ার ওয়ালেট কেনার সময় থেকেই যত্ন নিলে তা বহু বছর টিকে থাকে।
লেদার ব্যাগ ও জুতা পরিষ্কারের নিয়ম
ব্যাগ ও জুতা প্রতিদিন বাইরে যায়, তাই এতে ধুলা, কাদা ও বৃষ্টির ছিটা সবচেয়ে বেশি লাগে। এই কারণে এগুলোর যত্নও একটু বেশি নিয়মিত হওয়া ভালো।
- ব্যাগের ক্ষেত্রে: ব্যাগ পুরো খালি করুন এবং ভেতরের পকেট উল্টে ঝেড়ে নিন। বাইরের অংশ ৩ নম্বর অংশের ধাপ অনুযায়ী মুছুন। হ্যান্ডেল, ব্যাগের তলা ও চেইনের আশপাশে ময়লা বেশি জমে, তাই এসব জায়গায় একটু বাড়তি সময় দিন। ভেতরের কাপড়ের আস্তরণ নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে খোলা বাতাসে শুকিয়ে নিন। ভেতরে দুর্গন্ধ থাকলে ব্যাগ খোলা অবস্থায় ছায়াযুক্ত জায়গায় কয়েক ঘণ্টা রাখলেই অনেক সময় গন্ধ কেটে যায়।
- জুতার ক্ষেত্রে: জুতার ফিতা ও ইনসোল আগে খুলে নিন। শুকনো কাদা প্রথমে নরম ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে ফেলুন। তারপর সামান্য ভেজা কাপড়ে মৃদু সাবান নিয়ে গোল গোল করে মুছুন। ভেতরে খবরের কাগজ বা পুরোনো কাপড় ভরে আকার ঠিক রেখে ছায়ায় শুকাতে দিন। জুতা শুকাতে কখনোই রোদে বা হিটারের পাশে রাখবেন না।
ধরুন, বর্ষায় আপনার অফিসের জুতায় কাদার ছিটা লেগেছে। বাড়ি ফিরেই ভেজা কাপড়ে মুছে ফেলুন, না হলে কাদা শুকিয়ে চামড়ার ওপর সাদা ছোপ ফেলতে পারে। তারপর ভেতরে কাগজ ভরে একরাত ছায়ায় রাখুন। পরদিন সকালে হালকা কন্ডিশনার লাগালে চামড়া আবার নরম ও উজ্জ্বল দেখাবে।
লেদার সোফা পরিষ্কার করার উপায়
লেদার সোফা বাড়ির সবচেয়ে বড় চামড়ার জিনিস। এতে খাবারের দাগ, ধুলা, শরীরের তেল ও ঘাম জমে সময়ের সঙ্গে চামড়া মলিন হয়ে যায়। সোফার জন্য ছোট ছোট নিয়ম মানলেই সাধারণত বড় সমস্যা এড়ানো যায়।
- সাপ্তাহিক যত্ন: প্রতি সপ্তাহে শুকনো নরম কাপড় বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের নরম ব্রাশ দিয়ে ধুলা তুলুন। কুশনের ফাঁক ও হাতলের জোড়ায় ভালো করে খেয়াল রাখুন, কারণ সেখানে খাবারের কণা ও ধুলা জমে।
- মাসিক পরিষ্কার: মাসে একবার মৃদু সাবানের হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে পুরো সোফা মুছুন। একসঙ্গে পুরো সোফা না করে একটি একটি অংশ করে এগোন, যাতে প্রতিটি অংশ আলাদা করে শুকাতে পারেন। কাজ শেষে শুকনো কাপড়ে মুছে নিন।
- রোদ ও ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখুন: জানালার পাশের সোফায় সরাসরি রোদ পড়লে চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে ফেটে যেতে পারে। এসির সরাসরি ঠান্ডা বাতাসও চামড়াকে শুষ্ক করে। সম্ভব হলে সোফা এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সরাসরি রোদ বা বাতাস পড়ে না।
মনে করেন, বসার ঘরের সোফায় বাচ্চা চা ফেলে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় দিয়ে চেপে চেপে তরল শুষে নিন, ঘষবেন না। ঘষলে তরল চামড়ার ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। এরপর হালকা ভেজা কাপড়ে মুছে শুকাতে দিন। দাগ থেকে গেলে নিজে জোরাজুরি না করে সোফা প্রস্তুতকারক বা পেশাদার লেদার ক্লিনারের পরামর্শ নিন।
দাগ ও ছত্রাক দূর করার উপায়
বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় চামড়ায় ছত্রাক পড়া খুব পরিচিত সমস্যা। প্রথম আলোর চামড়ার ব্যাগ ও জুতায় ছত্রাক জন্মে কেন, কীভাবে দূর করবেন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত ব্যবহার এবং প্রতিবারের পর মুছে রাখা ছত্রাক ঠেকাতে সাহায্য করে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চামড়ায় ছত্রাক জমলে গরম পানিতে সামান্য ডিশওয়াশ মিশিয়ে পরিষ্কার কাপড়ে আলতো করে মুছে দিলে তা সহজে সরে।
- ছত্রাক সরানোর ধাপ:
- জিনিসটি খোলা বাতাসে ছায়ায় নিয়ে যান, যাতে ছত্রাকের কণা ঘরে না ছড়ায়।
- শুকনো নরম ব্রাশ দিয়ে ওপরের সাদা বা সবুজ আস্তরণ ঝেড়ে ফেলুন।
- কুসুম গরম পানি ও সামান্য ডিশওয়াশের মিশ্রণে কাপড় ভিজিয়ে ভালো করে চিপে নিন।
- আলতো করে মুছুন, তারপর শুকনো কাপড়ে পানি শুষে নিন।
- পুরোপুরি শুকালে কন্ডিশনার লাগান।
- তেলের দাগ: দাগ লাগার সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড়ে চেপে তেল শুষে নিন। ঘরোয়া পরিচিত পদ্ধতি হিসেবে অল্প কর্নস্টার্চ বা বেবি পাউডার দাগের ওপর ছিটিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে ফেলা যায়। তবে প্রথমে অদৃশ্য জায়গায় পরীক্ষা করে নিন।
- কালির দাগ: কলমের কালি অনেক সময় স্থায়ী হয়ে যায়। নিজে স্পিরিট বা নেইলপলিশ রিমুভার দিয়ে ঘষার ঝুঁকি না নিয়ে দামি জিনিসের ক্ষেত্রে পেশাদার লেদার কেয়ার সেবার সাহায্য নিন।
মনে করেন, বর্ষার পর আলমারি খুলে দেখলেন পুরোনো ব্যাগের ভেতরে সাদা ছোপ। ঘাবড়াবেন না। ছায়ায় নিয়ে ব্রাশ করুন, ডিশওয়াশের হালকা মিশ্রণে মুছুন, ভালো করে শুকান এবং কন্ডিশনার লাগান। ভবিষ্যতে একই সমস্যা এড়াতে আলমারিতে সিলিকা জেলের প্যাকেট রাখতে পারেন।
লেদার কন্ডিশনার কী ও কেন দরকার
পরিষ্কারের সময় চামড়া থেকে কিছুটা প্রাকৃতিক তেল চলে যায়। কন্ডিশনার সেই তেলের ঘাটতি পূরণ করে চামড়াকে নরম রাখে। কন্ডিশনার না দিলে চামড়া শুষ্ক হয়ে ফাটতে শুরু করে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে চামড়ার জিনিস প্রতি তিন থেকে ছয় মাস অন্তর পরিষ্কার ও কন্ডিশনিং করার পরামর্শ আছে। সে অনুযায়ী ব্যাগ ও ওয়ালেটে তিন-ছয় মাসে একবার এবং সোফায় বছরে দুই-তিনবার কন্ডিশনার দেওয়া যেতে পারে। বেশি ব্যবহৃত বা রোদে থাকা জিনিসে ব্যবধান একটু কমাতে পারেন।
কন্ডিশনার লাগানোর নিয়ম: নরম কাপড়ে মটরদানা পরিমাণ কন্ডিশনার নিন। চামড়ায় গোল গোল করে খুব পাতলা স্তরে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে শুকনো পরিষ্কার কাপড়ে আলতো করে পালিশ করুন। বেশি কন্ডিশনার লাগালে চামড়া পিচ্ছিল ও আঠালো হয়ে যেতে পারে।
বর্ষাকালে চামড়ার জিনিস সংরক্ষণের নিয়ম
চামড়ার জিনিস পরিষ্কার করার চেয়েও সংরক্ষণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঠিকমতো রাখলে পরিষ্কার করার প্রয়োজনই কমে যায়।
- ডাস্ট ব্যাগে রাখুন: সুতির ডাস্ট ব্যাগ বা বালিশের কভারে ঢেকে রাখুন। পলিথিনে সংরক্ষণ করবেন না, কারণ এতে ভেতরে আর্দ্রতা আটকে যায়।
- আকার ঠিক রাখুন: ব্যাগের ভেতরে কাগজ বা পুরোনো কাপড় ভরে রাখুন, যাতে ভাঁজ না পড়ে।
- নিয়মিত বাতাস লাগান: আলমারিতে অনেক দিন ফেলে না রেখে ১৫ দিন অন্তর বের করে খোলা বাতাসে রাখুন। শিক্ষক বাতায়নের নিয়ম অনুযায়ীও চামড়ার জিনিস দিন পনেরো পর পর আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় রাখার পরামর্শ আছে।
- আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার ব্যবস্থা: আলমারিতে সিলিকা জেলের প্যাকেট বা শুকনো চা পাতার ছোট পুঁটলি রাখতে পারেন।
- আলাদা রাখুন: চামড়ার জিনিস একটির ওপর আরেকটি চাপিয়ে রাখবেন না। বিশেষত রঙিন জিনিস পাশাপাশি রাখলে রং ছড়িয়ে যেতে পারে।
বর্ষার তিন মাস আপনি একটি ব্যাগ ব্যবহার করবেন না। ব্যাগ পরিষ্কার ও শুকিয়ে কন্ডিশনার লাগান, ভেতরে কাগজ ভরুন, সুতির কভারে ঢেকে সিলিকা জেলসহ আলমারিতে রাখুন। প্রতি দুই সপ্তাহে একবার বের করে বাতাস লাগান। এভাবে রাখলে ব্যবহারের সময় ব্যাগ প্রায় নতুনের মতোই থাকবে।
চামড়া পরিষ্কারে সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন
- অ্যালকোহল বা স্পিরিট ব্যবহার: শিক্ষক বাতায়নের পরামর্শ অনুযায়ী এতে চামড়ার রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
- তীব্র ডিটারজেন্ট বা ব্লিচ: চামড়ার প্রাকৃতিক তেল শুষে নিয়ে তা শক্ত করে ফেলে।
- ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া: চামড়া পানিতে ভিজে সংকুচিত ও শক্ত হয়ে যায়।
- হেয়ার ড্রায়ার বা রোদে শুকানো: হঠাৎ তাপে চামড়া ফেটে যায় ও রং ফ্যাকাশে হয়।
- একবারে অনেক কন্ডিশনার: চামড়া পিচ্ছিল হয়ে ধুলা টানে।
- প্যাচ টেস্ট না করা: নতুন ক্লিনার ব্যবহারের আগে অদৃশ্য জায়গায় পরীক্ষা না করলে সারা জিনিসে দাগ পড়ার ঝুঁকি থাকে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সাধারণ ধুলা সপ্তাহে একবার মুছে ফেলা ভালো। গভীর পরিষ্কার ও কন্ডিশনিং তিন থেকে ছয় মাসে একবার যথেষ্ট। বেশি ব্যবহার হলে ব্যবধান কমান।
না। সরাসরি পানি ঢালা বা ভিজিয়ে ধোয়া চামড়ার জন্য ক্ষতিকর। শুধু হালকা ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন।
ওয়ালেট খালি করে খোলা অবস্থায় ছায়াযুক্ত বাতাসে কয়েক ঘণ্টা রাখুন। প্রয়োজনে ভেতরে শুকনো কাগজ বা এক টুকরো কফি গ্রাউন্ডের পুঁটলি রেখে দিন।
আসল চামড়ায় প্রাকৃতিক দানাদার গঠন থাকে এবং এর নিজস্ব গন্ধ আছে। নকল বা PU চামড়ার গঠন অনেক সময় একরকম ও মসৃণ হয়। নিশ্চিত হতে নির্মাতার বিবরণ ও বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতার পণ্যের তথ্য দেখুন।
পুরোপুরি শুকানোর পর অল্প কন্ডিশনার লাগিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। দরকারে পরে আবার পাতলা করে দ্বিতীয়বার লাগান।
উপসংহার
চামড়ার জিনিসের যত্ন নেওয়া আসলে কঠিন নয়। ধরন চিনে নিন, নরম কাপড় ও মৃদু সাবান ব্যবহার করুন, ছায়ায় শুকান, সময়মতো কন্ডিশনার লাগান এবং বর্ষায় বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। এই ছোট ছোট অভ্যাসই আপনার ব্যাগ, ওয়ালেট ও জুতাকে বছরের পর বছর সুন্দর রাখবে।
নতুন টেকসই চামড়ার জিনিস খুঁজছেন? তাহলে স্টাইল ভেলির সব পণ্য দেখে নিতে পারেন। কেনার পর কোনো সমস্যা হলে আমাদের ওয়ারেন্টি পলিসি দেখে নিন। স্টাইল ভেলির সঙ্গে থাকুন এবং নিয়ম মেনে আপনার চামড়ার জিনিসগুলোর যত্ন নিন।